*ছেলের বয়স এখনো দুই মাসও হয়নি। এর মধ্যেই তাকে নিয়ে ওমরাহ্ করে এলেন। কেমন অভিজ্ঞতা হলো?
তামিম ইকবাল: আমার
পরিকল্পনাই ছিল, ওকে প্রথম বাইরে নিয়ে যাব মক্কায়...ওমরাহ্ করাতে। আমাদের
সঙ্গে এই বয়সে ওরও ওমরাহ হয়ে গেল। ওকে সঙ্গে নিয়েই ওমরাহর সব কাজ করেছি।
অনেক ভিড় থাকে, সে জন্য একটু ভয়ে ছিলাম। আল্লাহর রহমতে সব ঠিকঠাকভাবে
হয়েছে।
*ব্যাট হাতে ভালো ফর্মে আছেন। প্রিমিয়ার লিগে এই ফর্ম ধরে রাখার ব্যাপারে কতটা আত্মবিশ্বাসী?
তামিম: প্রিমিয়ার লিগ
বাংলাদেশের সর্বোচ্চ পর্যায়ের ক্রিকেট। এখানে যে রকম প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়,
সবাই যেভাবে এই লিগের তাকিয়ে থাকে; আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের কাছাকাছি যদি
বাংলাদেশে কিছু থাকে, সেটা বিপিএল আর এই প্রিমিয়ার লিগই। এখানে ভালো খেললে
নিজের কাছে ভালো লাগে, আত্মবিশ্বাস বাড়ে।
*আবাহনীতে আগেও খেলেছেন। সেই স্মৃতি মনে করলে কোন কথাটা সবার আগে মনে পড়ে?
তামিম: ওই মৌসুমে আমরা
চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলাম, এটাই সবার আগে মনে পড়ে। আমি একটা সেঞ্চুরি
করেছিলাম...১৬৫ বা এ রকম কিছু। ওই মৌসুমটা আবাহনীর জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ
ছিল। শিরোপা জয়ের হ্যাটট্রিক করেছিল সেবার আবাহনী।
*এরপরও একবার আবাহনীতে খেলার কথা ছিল। না খেলায় আবাহনী কর্মকর্তাদের সঙ্গে মনোমালিন্য হলো আপনার। তাঁরা তো এমনও বলেছিলেন, তামিম ইকবালের জন্য আবাহনীর দরজা চিরতরে বন্ধ...
তামিম: ওখান থেকে যখন
এই কথাটা বলা হলো, তখনো কিন্তু আমি মনে করিনি যে আবাহনীতে আর খেলব না।
আমি ছোটবেলা থেকেই আবাহনীর সমর্থক। কারণ আবাহনীতে আমার চাচা খেলতেন। ক্লাস
থ্রি-ফোরে পড়ার সময়ই আমি মাঠে গিয়ে আবাহনীর খেলা দেখতাম। আব্বার খেলা না
দেখলেও উনি মোহামেডানের হয়ে ফুটবল খেলতেন বলে ফুটবলে মোহামেডানকে সমর্থন
করতাম। কিন্তু ক্রিকেটে সব সময়ই আবাহনী।
*‘প্লেয়ার ড্রাফট’ না হলেও কি তাহলে এবার আবাহনীতেই খেলতে চাইতেন?
তামিম: আমি যেকোনো
দলে খেলার জন্যই প্রস্তুত থাকি। গত বছরও আবাহনীর সঙ্গে কথা হয়েছিল।
যেকোনো কারণেই হোক খেলা হয়নি। আবাহনী হোক, মোহামেডান হোক, রূপগঞ্জ
হোক বা অন্য যেকোনো দলই হোক, প্রস্তাবটা মনের মতো হলে আমি যেকোনো
দলেই খেলতে রাজি। তবে বড় ক্লাব হলে ভালো, যাদের সব ধরনের অনুশীলন সুবিধা
থাকে।
*বড় দলে সমর্থকদের একটা প্রত্যাশা তো থাকেই। ‘আইকন’ হিসেবে আপনার কাছে সেটা আরও বেশি থাকবে। বাড়তি কোনো চাপ?
তামিম: গত পাঁচ বছর আমি
যে দলেই খেলছি, বাড়তি চাপ নিয়ে খেলছি। তবে আমি ভাগ্যবান যে আমি সব সময়
ভালো দলেই থাকি। সব দলই চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য খেলে। তবে আবাহনী ভালো দল
করেছে বলেই চ্যাম্পিয়ন হয়ে যাবে, তা নয়। সে জন্য আমাদের সব ম্যাচ ভালো
খেলতে হবে।
*খেলোয়াড়েরা কেউই চাননি ‘প্লেয়ার বাই চয়েস’ বা ‘প্লেয়ার ড্রাফটে’র মাধ্যমে দলবদল হোক। শেষ পর্যন্ত সে দাবি মানা হলো না। কোনো মন্তব্য?
তামিম: আমি নিশ্চিত,
বাংলাদেশের সব ক্রিকেটারই চায় আগে যেভাবে দলবদল হয়ে এসেছে, সেভাবেই যেন হয়।
তারপরও হয়তো বিশেষ কোনো পরিস্থিতিতে এবার তা হয়নি। তবে আশা করব
ভবিষ্যতে আবারও আগের মতো দলবদল হবে। ক্রিকেটার, সমর্থক সবাই এটা খুব
উপভোগ করে।
0 comments:
Post a Comment